কলকাতা, ১৬ অগস্ট : দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন কলকাতার প্রাণকেন্দ্র থেকে উঠল অন্য এক মুক্তির ডাক—ডুবে মৃত্যু থেকে মুক্তি। এই ডাকের পিছনে রয়েছে উদ্বেগজনক বাস্তব। সাম্প্রতিক রাজ্যব্যাপী সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বছর আনুমানিক ৯,১৯১ জন ডুবে প্রাণ হারান। অর্থাৎ, প্রতিদিন প্রায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়—যাঁদের মধ্যে ১২ জনই ১০ বছরের কম বয়সি শিশু। রাজ্যের ২৩টি জেলায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ জনসংখ্যাকে ঘিরে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল।
শুক্রবার মধ্য কলকাতার ঐতিহাসিক নিউ মার্কেট সংলগ্ন খোলা জায়গায় পথনাটক এবং হাতে-কলমে সিপিআর প্রদর্শনের আয়োজন করে চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট (সিনি)। কেউ জলে ডুবে গেলে প্রথম কয়েক মিনিটে কী করা দরকার, কী ভাবে নিরাপদে সাহায্য করতে হবে এবং জল থেকে তোলার পরে কী ভাবে সিপিআর দিতে হয়—নাটক ও সরাসরি প্রদর্শনের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হয়।
কলকাতা বরাবরই তার রাস্তা ও জনপরিসরকে সামাজিক বার্তার মঞ্চ করে তুলেছে। শুক্রবারও তার ব্যতিক্রম হল না। ব্যস্ত শহরের মাঝখানে পথচলতি মানুষ দাঁড়িয়ে দেখলেন জীবন বাঁচানোর জরুরি পাঠ। অনুষ্ঠানে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয় ভারত সরকারের ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের কৌশলগত কাঠামোর মূল বার্তাগুলিও।
জীবনরক্ষা এবং ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে অগ্রণী সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই)-এর কৌশলগত ও কারিগরি সহায়তায় সিনি পশ্চিমবঙ্গের ৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে সিপিআর এবং ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে কী করণীয়, তার প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশিক্ষিত সাধারণ মানুষ ও প্রথম সারির কর্মীদের একটি বড় দল তৈরি হয়েছে, যাঁরা বিপদের প্রথম কয়েক মিনিটে এগিয়ে আসতে পারেন।
সিনির লিড—ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি সুজয় রায় বলেন, “প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই, যখন প্রতিটি শিশু নিরাপদে বড় হতে পারে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে এবং দিনের শেষে ঘরে ফিরতে পারে। দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে আমাদের শপথ হোক—ডুবে মৃত্যু-সহ শিশুদের যে সব অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু আটকানো সম্ভব, তা রুখতে ভারত সরকারের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা। বিকশিত ভারতকে প্রতিটি শিশুর জন্য সুরক্ষিত ভারতও হতে হবে।”
0 Comments