ওয়েব ডেস্ক;২৭ জুলাই : বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভারতে ক্রমবর্ধমান লিভারের রোগের বোঝা এবং প্রতিদিনের সহজ জীবনযাপনের অভ্যাসের মাধ্যমে লিভারের সুস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। শরীরের প্রাকৃতিক 'ডিটক্সিফিকেশন সেন্টার' হিসেবে পরিচিত লিভার হজম, বিপাকক্রিয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণসহ ৫০০-রও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে। তবুও, সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে লিভারের যত্ন এখনও সবচেয়ে অবহেলিত বিষয়গুলির অন্যতম।
লিভারের সার্বিক যত্ন সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. প্রীতি ছাবড়া, সিনিয়র আয়ুর্বেদিক কনসালট্যান্ট বলেন, "সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাসের পাশাপাশি, স্বাভাবিক লিভার কার্যকারিতা বজায় রাখতে বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত ভেষজ উপাদানসমৃদ্ধ ফর্মুলেশন বিবেচনা করা যেতে পারে। ডাবর হেপানো-র মতো, সময়-পরীক্ষিত আয়ুর্বেদিক উপাদানে তৈরি পণ্য লিভারের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার একটি বিস্তৃত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, কোনও সাপ্লিমেন্টই সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শের গুরুত্বের বিকল্প হতে পারে না।"
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রতিদিনের জীবনে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে ফল, শাকসবজি ও প্রাকৃতিক খাবারসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, অপ্রয়োজনীয় ও নিজে থেকে ওষুধ সেবন এড়িয়ে চলা, মদ্যপান সীমিত রাখা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হেপাটাইটিসের টিকা গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা পরিবারে লিভারের রোগের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলি দীর্ঘমেয়াদে লিভারের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
0 Comments