ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত ২২ বছরের যুবক , কোথায় হলো চিকিৎসা




ওয়েব ডেস্ক; ১৬ জানুয়ারি: মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ি-তে চিকিৎসা পেয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন কিশনগঞ্জের ২২ বছরের ছাত্র রবি গুপ্ত (নাম পরিবর্তিত)। গত ৩ জানুয়ারি ঘুড়ি ওড়ানোর সময় তিনতলা ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর মাথায় আঘাত পান এবং অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. সিঁথি পাল প্রথমে রোগীকে মূল্যায়ন করেন এবং দ্রুত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু করেন। জরুরি বিভাগে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল করার পরই একাধিক বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। এই দলে ছিলেন নিউরোসার্জারি বিভাগের ডা. অনুরুপ সাহা, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের ডা. সমিত পারুয়া, প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ডা. সোইবাম জয়া লেইমা, জেনারেল সার্জারি বিভাগের ডা. পেনজিং দিচেন ভুটিয়া, অপথ্যালমোলজি বিভাগের ডা. মনোজ আগরওয়াল এবং অর্থোপেডিক্স বিভাগের ডা. পঙ্কজ কুমার।
অচেতন অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনার সময় প্রাথমিকভাবে তাঁর ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি, মুখমণ্ডলে আঘাত এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ইন্টুবেশন করে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয় এবং উন্নত লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রোগীর অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

চিকিৎসাকালীন সময়ে রোগীর আঘাতের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য একাধিক উন্নত পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ছিল ব্রেনের একাধিক সিটি স্ক্যান, ব্রেন ও স্পাইনের এমআরআই, ফেসিয়াল সিটি স্ক্যান এবং এক্স-রে। আইসিইউ-তে থাকাকালীন তাঁকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলতে থাকে। দীর্ঘ কিন্তু ধারাবাহিক উন্নতির পর তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাঁকে জেনারেল ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments