কলকাতা, ১৭ জানুয়ারি : ভারতে বায়ু দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে খণ্ডিত উদ্যোগ এবং স্বল্পমেয়াদি সমাধান বায়ুর গুণমান বা শহুরে জীবনযাত্রার মানে দীর্ঘস্থায়ী উন্নতি আনতে পারবে না।
এই উদ্বেগগুলি বুধবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি ক্লিন এয়ার ডায়ালগ-এ উঠে আসে। এই আলোচনায় নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা, শিক্ষাবিদ এবং ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন এবং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপের পথ নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে বায়ু দূষণের উৎস মোকাবিলায় সরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভারতে রোগ ও অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ এখন বায়ু দূষণ, যা প্রতি বছর আনুমানিক ১৬–১৭ লক্ষ অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী। অনেক ভারতীয় শহরে সূক্ষ্ম বস্তুকণা (PM2.5)-এর গড় মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাবিত বার্ষিক সীমার প্রায় দশ গুণ বেশি। বিশেষ করে শীতকালে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। দূষিত বাতাসে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, হৃদরোগ, শিশুদের ফুসফুসের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। যদিও শহরভিত্তিক বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা ও নজরদারি ব্যবস্থা চালু রয়েছে, বক্তারা বাস্তবায়নের ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী জনসম্পৃক্ততার অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রফেসর ভি. ফে ম্যাকনিল, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, নিউ ইয়র্ক-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস চেয়ার এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক, বিজ্ঞান, নীতি ও জনসম্পৃক্ততার মধ্যে সেতুবন্ধনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “বায়ু দূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে নয়, একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখতে হবে। শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রণীত নীতি এবং অর্থবহ জনসম্পৃক্ততাই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান এনে দিতে পারে।”
ড. কল্যাণ রুদ্র, চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বায়ুর গুণমান উন্নত করতে হলে সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিক—সব পক্ষের ধারাবাহিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ ধরনের আলোচনা জ্ঞান ও কার্যক্রমের মধ্যে সাযুজ্য তৈরি করতে সাহায্য করে।”
0 Comments